Famous Flamingos

পাহাড় জঙ্গল ঘেরা দারিংসাহেবের দেশে!

এক পাহাড় শালের জঙ্গল – পাইনের সমাহার – খরস্রোতা ঝর্না – হাতে গোনা কয়েকঘরের ছোট্ট ছোট্ট সবুজ গ্রাম পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় দারিং সাহেবের নিশ্চিন্ত বাড়ির দেশে! রাতের ট্রেনে হাওড়া থেকে চেপে পরের দিন সকাল সকাল নামুন বারহামপুর স্টেশনে। আগে থেকে গাড়ি ঠিক করে রাখাই ভাল। ঘন্টা তিনেক  লাগবে ওখান থেকে দারিংবাড়ি পৌঁছাতে। গাড়িতে ওঠার আগে জল আর কিছু খাবার নিয়ে নেবেন সাথে কারণ রাস্তাতে বিশেষ কিছু পাবেন না।

মাথায় রাখবেন এটা উত্তরবঙ্গ নয় এবং আপনি দার্জিলিং যাচ্ছেন না সুতরাং রাস্তার দুদিকের সৌন্দর্য যে দার্জিলিং বা মিরিক যাওয়ার পথের সৌন্দর্যের সাথে মিলবে সেটা আশা করা বোকামি। আর আমাদের বাঙালিদের তো ‘এ আর এমন কি, এর থেকে ওটা কত্ত ভাল’ সিনড্রোম আছেই! এই জগদ্বিখ্যাত বাঙালি উপসর্গটি যদি দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন, দেখবেন ওড়িশার এই আধা প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রাম কতটা মায়াময়। 

লাল মাটির সাথে সবুজ মিলে একাকার !

একবার পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি উঠতে শুরু করলে ভালোই লাগবে! এ এক অন্যরকম সৌন্দর্য্য। খানিক রুক্ষ। লাল মাটির দেশ। পাহাড়ের ঢালগুলো সবুজে ঢাকা। মূলত শালের জঙ্গল। সর্পিল রাস্তায় এক ঘন্টা চললেই পৌঁছে যাবেন এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদে। 

দারিংবাড়িতে আজকের এই উত্তর আধুনিক যুগেও অধিকাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না, আর সেটাই বোধয় জায়গাটাকে আরো আকর্ষক করে তুলেছে। প্রয়োজনে একটি বি এস এন এল বা জিও সিম সাথে রাখুন, বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের এই দুটিই মাত্র উপায়। হোটেল হয়েছে বেশ কিছু। একটা ইকো রিসেটও আছে তবে সেখানে থাকতে গেলে বেশ আগে থাকতে বুকিং করে রাখতে হয়। সব হোটেলই বেসিক, তবে পরিষ্কার পরিছন্ন। 

দারিংবাড়ি গিয়ে আর যাই করুন, হিল ভিউ রেস্টুরেন্টের মটন থালিটা মিস করবেন না যেন! অসাধারণ রান্না করেন এখানকার রাঁধুনীরা। সাইট সিইং এর নাম করে যেখানে যেখানে নিয়ে যাবে সেই জায়গাগুলো খুব অসাধারণ কিছু না হলেও ভালোই। গরমকালে যাওয়ার থেকে শীতে যাওয়া অবশ্যই বেশি ভালো, তবে দুই – এক পশলা বৃষ্টি হলে ঘোর গরমেও এ সি বিহীন দিব্যি রাত কেটে যাবে। 

দাসিং বাড়ি জলপ্রপাত !

সন্ধে নামতেই নিভু নিভু আলো জ্বলে ওঠে রাস্তায়, ছোটো ছোটো দোকান আধো ঘুমে বিকিকিনি চালিয়ে যায় যতক্ষণ না সন্ধে ঢলে পড়ছে রাতের কোলে। তারপর রাতের বয়েস বাড়ে – সন্তর্পণে।

ধীরে ধীরে ঘুমের দেশে পাড়ি দেয় দারিংবাড়ি। বৃষ্টি ধোওয়া এক ঝকঝকে আকাশ ভর্তি তারার আড়াল থেকে এক বৃদ্ধ সাহেব নিচের পাহাড় আর ঘুমিয়ে পড়া জনপদটার দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে আরামকেদারাতেই পাশ ফিরে নিদ্রার দেশে পাড়ি দেন!

গোলমরিচ আর কফির চাষ হয় এখানে

দিন দুয়েকের ছুটি কাটানোর জন্য একদম পারফেক্ট ছবির মত সুন্দর দারিং সাহেবের নামাঙ্কিত এই পাহাড়ি গঞ্জ।

দারিং সাহেবের দেশে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *