Famous Flamingos

‘ কেরালা-এক নৈসর্গিক রূপকথার দেশ’ (প্রথম পর্ব)

ধরুন যদি প্রশ্ন হয় ঈশ্বরের বাস কোথায়,তাহলে উত্তর হবে ‘মানুষের মন’,কিন্তু যদি জিজ্ঞাসা করা যায় ‘ঈশ্বরের নিজের দেশ’ কোথায় তাহলে অবশ্যই উত্তর আসবে ‘কেরালা’, সংস্কৃতে যে শব্দের (কেরলাম) অর্থ ‘যে জমি যোগ করা হয়েছে’ (এক মত অনুসারে, ঋষি পরশুরাম সমুদ্রের কাছ থেকে এই জমিটুকু উদ্ধার করেছিলেন। তাই এই রাজ্যের নাম কেরালা)|

গত বছর পুজোর সময় বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে ভারতবর্ষের দক্ষিনে অবস্থিত এই রাজ্যটির উদ্দেশ্যেই বেরিয়ে পড়েছিলাম সপরিবারে |পুজোর সময় বলে টিকিটের চাহিদা ছিল অনেক বেশি| সেই কারণে আমরা কলকাতা থেকে কোচিন বিমানবন্দর পর্যন্ত টিকিট পাইনি,অগত্যা কলকাতা-চেন্নাই বিমানের টিকিট কাটতে হল এবং চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে একরাত্রি ট্রেনজার্নি করে এর্নাকুলাম তথা কোচিন পৌঁছব বলে স্থির করলাম।

পরিকল্পনা মতই নির্দিষ্টদিনে সদলবলে হাজির হয়ে গেলাম কলকাতা (দমদম) বিমানবন্দরে এবং ‘বিমান ও রেলগাড়িতে’ করে ‘ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে’ অবশেষে পরদিন সকাল ৬:১৫ নাগাদ আমরা যখন নামলাম এর্নাকুলাম জংশনে আকাশের মুখ তখন ভার| টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম বছরের এই সময়টায় এখানকার আবহাওয়া এরকমই ‘গোমড়ামুখো’ থাকে,মনে পড়ে গেল ছোটবেলায় ভূগোলে পড়েছিলাম ‘কেরালা ও তামিলনাড়ুর উপকূলে বছরে দুবার বর্ষা আসে’। এইসব চিন্তা করতে করতে স্টেশনের বাইরে এসে দাঁড়ালাম।

কলকাতা থেকে বুক করা গাড়ি আমাদের জন্য ততক্ষনে এসে দাঁড়িয়ে আছে। মালপত্র গাড়ির মাথায় তুলে আমরা গাড়িতে চেপে বসলাম। গাড়ি রওনা দিল হোটেলের উদ্দেশ্যে এবং মিনিট ১৫-২০ র মধ্যে আমরা হোটেল ‘Fort Queen’ এ পৌঁছে গেলাম।ঘন্টাখানেকের মধ্যে জলখাবার খেয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম কোচিন শহর দেখতে।

‘আরব সাগরের রাণী’ কোচিন বা কোচি বা ফোর্ট কোচি শহর বেশ প্রাচীন এবং একাধারে তৈলশোধনাগার ও বন্দর। পঞ্চদশ শতকের গোড়ার দিকে পর্তুগীজরা এই শহরে উপনিবেশ স্থাপন করলেও পরে ওলন্দাজ ও ইংরেজরা তা দখল করে নেয়।আজও এই শহরের অলি-গলিতে যেন ওলন্দাজদের স্পর্শ টা যেন থেকেই গেছে ।

গাড়িতে করে যেতে যেতে রাস্তার দুপাশে সারি দিয়ে ওলন্দাজ ধাঁচে তৈরি বাড়িগুলো দেখতে দেখতে একটা সময় মনে হল যে আমি বোধহয় বিদেশে চলে এসেছি (যারা গোয়া অথবা পন্ডিচেরি গেছেন,তাঁদেরও একইরকম অনুভূতি হয়ে থাকবে)।

এ গলি,সে গলি করতে করতে একটা গির্জার সামনে এসে আমাদের গাড়ি থামল। গির্জাটির নাম ‘সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ’।এটাই ভারতবর্ষে তৈরি প্রথম ইউরোপিয়ান গির্জা (১৫০০ খ্রীঃ,পুনর্নির্মান ১৫১৬ খ্রীঃ)।এই গির্জাতেই আছে পর্তুগীজ অভিযাত্রী ভাস্কো ডা গামার সমাধি (আছে শুধু সমাধির খোলসটি,১৫২৪ সালে তিনি সমাধিস্থ হন,১৫৩৮ সালে সেই সমাধি স্থানান্তরিত করা হয় পর্তুগালে)।

‘সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ’

গির্জা দেখে আমরা গেলাম কোচিন সমুদ্র সৈকতে।কচুরিপানা ,মাছধরার ডিঙি নৌকা ,মাঝখানে মাঝারি আকারের কয়েকটি জাহাজ সম্বলিত এই সুবিশাল জলাশয়টিকে সমুদ্র না বলে ‘কয়াল’ (Backwater) বলাই ভালো ।

সমুদ্রের ধারে পাথর দিয়ে বাঁধাই করে পায়ে চলার পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে| সেই পথে হাঁটতে হাঁটতে কিছুক্ষন পর দেখলাম এখানকার স্থানীয় লোকজন ঝিনুক , কাঠের তৈরি জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছে|ওই পথেই আরও একটা অদ্ভুত জিনিস দেখলাম|

যার নাম ‘Chinese Fishing Net’ ( কোচিন এবং কোল্লাম, এই বস্তুটি কেবলমাত্র ভারতবর্ষের দুটো জায়গায় দেখা যায় )সমুদ্র দেখে বেরিয়ে আমরা গেলাম মাট্টানচেরী প্যালেস মিউজিয়াম (Mattanchery Palace Museum) দেখতে।

১৫৫৫ সালে পর্তুগীজরা এই প্রাসাদ নির্মান করে এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ কোচিন রাজকে তারা এটি উপহার দেয়।১৬৬৫ সালে কিছু মেরামতির জন্য এই প্রাসাদের দায়িত্ব ওলন্দাজদের দেওয়া হয়,তখন থেকে এই প্রাসাদকে ‘Dutch Palace’ ও বলা হয়। প্রাসাদটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিশ্র স্থাপত্যশৈলীর এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। ৩০০ বর্গমিঃ এলাকা বিশিষ্ট চতুর্ভূজাকার এই প্রাসাদে কয়েকটি বড় হলঘর আছে। একটি করে ঘর পেরিয়ে অন্য ঘরে যেতে হয়। প্রত্যেকটি ঘরের দেওয়ালে অঙ্কিত হিন্দু পুরাণ ও দেবদেবী বিষয়ক ছবিগুলি সেযুগের শিল্পীদের প্রতিভা ও স্থৈর্যের পরিচয় দেয়।এছাড়াও কাঠ নির্মিত কারুকার্যময় ঘরের কড়িকাঠগুলো এককথায় অসাধারন।মিউজিয়ামে রাখা সেযুগের রাজপোশাক,অস্ত্রাদি ইত্যাদি দেখতে দেখতে আমরা ঘরগুলি ঘুরে দেখতে লাগলাম।

মিউজিয়াম দেখা শেষ হলে আমরা এই প্রাসাদেরই লাগোয়া একটি বাজারে গেলাম,এই অঞ্চলে যাকে ‘Jew Town’ ( ইহুদিদের শহর ) বলা হয়|প্রশস্ত রাস্তার দু’পা শে হরেক মালের পসরা যথা মসলা, কাঠের জিনিসপত্র, পাথরের জিনিসপত্র,কেরালা কটনের শাড়ি-ধুতি ইত্যাদি সাজিয়ে নিয়ে বসেছে ব্যবসায়ীরা |বেশির ভাগই স্থায়ী দোকান এখানে |তার মধ্যেই কিছু খাবারের হোটেলও আছে,যেখান থেকে আসা দক্ষিণ ভারতীয় খাবার ও মাছ ভাজার গন্ধ খিদেটাকে বাড়িয়ে দিল।

রোদ্দুরও বাড়ছিল পাল্লা দিয়ে। অতএব Back to Pavilion, মানে এবার হোটেলে ফেরার পালা।

একটা জিনিস তো বলাই হয়নি, আমরা হোটেলে ফিরে এলাম বটে,কিন্তু দিনটি সোমবার হওয়ার জন্য একটি দ্রষ্টব্য আমরা দেখতে পারিনি,সেটি হচ্ছে জিউ সিনাগোগ ( Jew Synagogue,ইহুদিদের প্রার্থনাগৃহ,|এটি সোমবার বন্ধ থাকে )|

বাকিদিনটা হোটেলবন্দি হয়েই কাটাতে হল। সন্ধ্যাবেলায় নামলো ঝিরঝির করে বৃষ্টি, অতএব প্যাকিং করতে বসে গেলাম। পরদিন সকালেই মুন্নারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যেতে হবে আমাদের।

পরদিন সকালে যথাসময়ে আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিল মুন্নারের উদ্দেশ্যে।কোচিন থেকে মুন্নারের দুরত্ব সড়কপথে প্রায় ১৪০ কিমি। গাড়িতে যেতে যেতে বাইরের দৃশ্যপট প্রথমদিকে শহরকেন্দ্রিক থাকলেও কয়েক ঘন্টা পর থেকে তা বদলে যেতে লাগল।

রাস্তার একপাশে ছোট ছোট টিলা,তার গা বেয়ে রাস্তা উঠে গেছে কোন এক অজানার উদ্দেশ্যে,আবার কখনও সেই টিলা বেয়ে নেমে আসা ছোট্ট ঝর্ণাটি পিচ রাস্তার সমস্ত দীর্ণতাকে সিক্ত করে হারিয়ে যাচ্ছে অন্যপ্রান্তের খাদে। দুরে পাহাড়ের গায়ে কেউ যেন চা বাগানের গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে যেন একটা ক্যানভাস,প্রকৃতিদেবতা বেখেয়ালে কত রঙেরই তুলির টান যান এই ক্যানভাসে!!

একটা সময়ে পাহাড়ের প্যাঁচানো রাস্তা দিয়ে আমাদের গাড়ি উঠতে লাগল,তাপমাত্রাও কিছুটা কমে গেল। ড্রাইভারের সামনে রাখা গুগল ম্যাপ বলছে গন্তব্য আর মাত্র ১১কিমি দুরে। একইভাবে প্যাঁচ খেতে খেতে এবং রাস্তার দুপাশের পাহাড়ের ঢালে চা বাগান দেখতে দেখতে খানিকবাদেই আমরা পৌঁছে গেলাম হোটেল ‘Misty Mountain’ এ।

কোচিন থেকে এখানে আসার পথে আমাদের তিনবার নামতে হয়েছিল। প্রথমবার নামলাম মশলা বাগান (Spice Garden) দেখতে। প্রাকৃতিকভাবে এখানে এলাচ,গোলমরিচ প্রভৃতি মশলা ও কোকো,কাজুবাদাম চাষ করা হয় এবং বাগান লাগোয়া এদের নিজস্ব দোকান থেকে বিক্রি করা হয়। এরকম মশলা বাগান প্রচুর দেখা যায় কেরালায়।

দ্বিতীয়বার নামলাম ‘চিয়াপ্পারা জলপ্রপাত’ দেখতে।শেষবার নামতে হল লাঞ্চ করার জন্য। তখন আমরা সবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠছি,দুপুরবেলা ততক্ষনে পেটে ছুঁচোয় ডন মারছে। তাই গাড়ি থামিয়ে একটি হোটেল ঢুকলাম,খুব ইচ্ছা হল কেরালার খাবার খাব। কিন্তু কপাল!! এগরোল-বিরিয়ানি খাওয়া এই বাঙালির পেটে ওই লাল-নীল টক খাবার রুচলো না।বেজার মুখ করে যতটা পারলাম খেয়ে গাড়িতে এসে বসলাম।

যাইহোক,যা বলছিলাম, হোটেলে পৌঁছে নিজেদের ঘরে গিয়ে লাগেজ রেখে একটু বিশ্রাম নিয়ে কিছুক্ষণ পর পায়ে হেঁটে বেড়িয়ে পড়লাম চারপাশ ঘুরে দেখতে।

‘দক্ষিণ ভারতের কাশ্মীর’ মুন্নার পশ্চিমঘাট পর্বতমালা রেঞ্জের একটি শৈল শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা ১৬০০ মিটার| হোটেল থেকে বেরিয়ে আমরা হোটেলের সামনে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়ে সামনে এক অপূর্ব দৃশ্য দেখলাম।

পায়ের নিচে বিস্তীর্ণ চা বাগান,আরও দুরে পশ্চিমঘাট পর্বতের সারি। মাঝে মাঝে পেঁজা তুলোর মত মেঘ এসে দৃশ্যপট ঢেকে দিচ্ছে।সত্যি এক মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা।

পাহাড়ি এই অঞ্চলে দ্রুত সন্ধ্যা নেমে আসছিল। আমরা আরও কিছুক্ষণ বাইরে কাটিয়ে হোটেলে ফিরে এলাম।

পরদিন সকাল ৮:৩০ টার মধ্যে আমরা জলখাবার খেয়ে রওনা দিলাম এরাভিকুলাম ন্যাশনাল পার্ক (Eravikulam National Park) এর উদ্দেশ্যে| পার্কে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় টিকিট কলকাতা থেকেই কেটে রেখেছিলাম আমরা৷( ন্যাশানাল পার্ক এর প্রবেশ মূল্য : ভারতীয়দের জন্য ২৫/- টাকা , শিশুদের ১০/- টাকা ( ৫ থেকে ১২ বছর ) এছাড়া নীলগিরি থর সংরক্ষণ এর জন্য প্রদান করতে হয় : ভারতীয়দের জন্য ৯৫/- টাকা , শিশুদের ৮০/- টাকা ( ৫ থেকে ১২ বছর ) অনলাইন টিকিটের জন্য লগঅন করুন www.eravikulam.org অথবা www.munnarwildlife.com ৷ )

টিকিট দেখিয়ে পার্কে প্রবেশ করে আমরা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম (এই পার্কে প্রবেশের পর পার্কের নিজস্ব বাসে উঠতে হয়,বাস নিয়ে যায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে)৷ কিছুক্ষণ পর বাসে উঠে আমরা পাহাড়ের বাঁক বরাবর এগোতে লাগলাম৷

বাঁদিকে গভীর খাদ্ আর দুরে চা বাগিচার গালিচা বিছানো পাহাড় এবং ‘দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ’ আনাইমুদি কে ডানদিকে রেখে আমরা এগিয়ে চললাম৷ মিনিট ৫-৭ পর আমরা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম৷ জায়গাটি হল আসলে একটা ‘চেকপোষ্ট’,সেখান থেকে পায়ে হেঁটে পার্কটি ঘুরতে হয়৷ পাহাড়ের কোল ঘেঁষে পায়ে হাঁটার পিচ্ রাস্তাটি প্রায় ৬০-৭০ কিমি বিস্তৃত৷ সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটলে এই পার্কে সংরক্ষিত জীবজন্তুগুলি দেখা যায়৷ আমরা সেই রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলাম৷

মিঠে রোদ্দুরে সেই রাস্তা হাঁটতে বড় ভাল লাগছিল৷ রাস্তাটা হাঁটতে হাঁটতে পাহাড়ের ঢালে দেখতে পেলাম’নীলকুরঞ্জী’ফুল ৷ বেগুনী রঙের এই ফুল পশ্চিমঘাট তথা নীলগিরি পর্বতের রেঞ্জে প্রতি ১২ বছর অন্তর ফোটে৷ মাসখানেক আগের প্রবল বন্যায় বেশিরভাগ ফুল নষ্ট হয়ে গেলেও কিছু ফুল এখনও ফুটে আছে৷ আমরা আরও কিছুটা এগিয়ে গিয়ে যে জায়গায় এসে পড়লাম,সেখানে ডানদিকে হাতচারেক ওপরে ঘাসাবৃত একটি জায়গায় অন্তত ২০-২২ টি ছাগলের মত জীব স্বাছন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷

এই প্রাণীটির নাম ‘নীলগিরি থর’ (Nilgiri Tahr) ছাগলের মত আকারের,ভেড়ার মত লোমওলা প্রাণীটি এমনি বেশ মিশুকে,শুধু তাই না মাঝে মাঝে প্রয়োজন মত ফোটো তোলার জন্য আবার পোজও দিতে লাগল৷

ঘন্টাখানেক থাকার পর এবার আমাদের ফিরতে হবে,একইভাবে বাসে উঠে ফিরে এলাম আমাদের গাড়ির কাছে ৷আরও কিছু জায়গা দেখা বাকি ছিল৷ গাড়িতে উঠে এরপর আমরা যে জায়গায় গেলাম তা একটি ফুলের বাগান৷ বিভিন্ন রঙবেরঙের ফুলে আবৃত সেই জায়গা সত্যিই মনমুগ্ধকর৷

এরপর আমরা চা মিউজিয়াম (Tea Museum),মাটুপেট্টি বাঁধ (Matupetty Dam) দেখে মূল শহরাঞ্চলে গেলাম কিছু কেনাকাটা করতে৷ (যারা কেরালা যাবেন তাঁরা মুন্নার থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যেমন:কফি,চকলেট,মশলাপাতি,কাঠ ও ঝিনুকের সামগ্রী কিনতে পারেন)৷ কেনাকাটা করে আমরা হোটেলে ফিরলাম৷

দুপুরের খাওয়াদাওয়া করে সবাই যখন বিশ্রাম করছে তখন আমি চলে এলাম হোটেলের ছাদে৷ এ ভারি অদ্ভুত জায়গা৷ ছাদটা এমনি বেশ বড়৷ ছাদের একদিকে আছে একটা সিঁড়ি৷সিঁড়িটা একটা বাগানের মধ্য দিয়ে হোটেলের পেছনে পাহাড়ের গা বরাবর বনের মধ্যে চলে গেছে ৷

কিছুক্ষণ আগে বেশ জোরে বৃষ্টি হয়ে গেছে৷ বনের মধ্যে দিয়ে ভেজা রাস্তায় বেশকিছুক্ষন হাঁটলাম৷ মিনিট ৪০ পরে ফিরে এলাম হোটেলের ঘরে৷ বাইরে ততক্ষণে সন্ধ্যা নামব নামব করছে৷ বাকি সন্ধ্যাটা হোটেলে বসেই কাটালাম৷

পরে আরেকবার ছাদে গিয়ে গিয়ে দেখলাম ক্যাম্প ফায়ারের আয়োজন চলছে৷ বেশকিছুক্ষন থাকার পরে নিজের ঘরে ফিরলাম,আরও কিছুক্ষণ পর রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম৷ পরেরদিন সকালেই আমাদের পেরিয়ারের উদ্দেশ্য রওনা দিতে হবে,মুন্নার থেকে যার দূরত্ব ৯০ কিমি…..

…..ব্লগের শেষ অংশ পরবর্তী অধ্যায়ে…..( To Be Continued…………….. )

পর্যটকদের জন্য কিছু কথা :

উৎসবের সময় পর্যটকরা কলকাতা-কোচিন ফ্লাইট পান না। সেক্ষেত্রে তাঁদের কলকাতা-চেন্নাই ফ্লাইট ও চেন্নাই সেন্ট্রাল – এর্নাকুলাম ট্রেনে যেতে হয়। কিন্তু চেন্নাই বিমানবন্দর ও চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশন মোটেই পাশাপাশি নয়। দুটোর দূরত্ব ৪০ কিমি। পর্যটকরা চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশন মেট্রো রেলে করে যেতে পারেন কোন গাড়ি ভাড়া না করে। চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন ৫০০ মিঃ দূরে অবস্থিত, প্রশস্ত করিডোর দিয়ে যেতে বেশিক্ষণ সময় লাগে না। ভাড়া ৭০ টাকা,সময় লাগবে ৪৫ মিনিট। কলকাতা শহরের মত অত ভীড়ও হয় না। চেন্নাই সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনে নেমে গন্তব্য স্টেশন ১ মিনিটের হাঁটা পথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *