Famous Flamingos

লাল পৃথিবী বরন্তি !

চারিদিক বিপ্লবের রঙে রাঙা। ছোটোবেলা থেকে লাল পৃথিবী গড়ব বলে হাতটা মুঠো করে উঠিয়েছিলাম আকাশে। অজান্তে কখন যে লাল রঙকে ভালোবেসেছিলাম নিজেই জানি না । হঠাৎ-ই বন্ধুদের বাঁধন ছেঁড়া ডাক চল্ ‘বরন্তি যাবি’। ভাবলাম এ আবার কোথায়! তারপরেই স্বভাবমতো পড়াশোনা এবং জায়গাটির হাল-হকিকৎ জেনে ফেলা।

বাসন্তী এক ভোরে চেপে বসা ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’এ। গানে-গল্পে আসানসোল। তারপর গাড়িতে অচেনা গন্তব্যের দিকে। বর্ধমান – পুরুলিয়া পিচঢালা রাস্তা দিয়ে যত এগোই চোখে ধাঁধা। এ কোথায় এলাম। এ যে চারিদিকে আগুন লেগে গেছে। মনে মনে ভাবলাম ‘বিপ্লব জাগ্রত দ্বারে’। সে এক লাল পৃথিবী । আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম। সরল, অপাপবিদ্ধ মানুষ। সবাইকে মোহাবিষ্ট করে রাখবে প্রকৃতি।

পূর্ণিমার সন্ধেতে জোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চরাচর।বরন্তি লেকে স্থবির টিলার প্রতিচ্ছায়া । সবই মনে হয় শিল্পীর তুলির টান। ভোরবেলা বসন্তের মৃদু বাতাস গায়ে মেখে হাঁটতে থাকি অনির্দেশের পথে। সম্বিত ফিরে দেখি আমি দাঁড়িয়ে আছি পলাশ-শিমুলের মাঝে। আমার গায়ে মাথায় ঝরে পড়ছে স্বপ্ন-ভালোবাসা-ভবিষ্যৎ । মাতাল করা ভোরে আমি পায়ে পায়ে ফিরে আসি বাস্তবে। পিছনে পড়ে থাকে স্বপ্নের, আকাঙ্ক্ষিত লাল পৃথিবী ।


বিকেলের রঙে রাঙা বরন্তি লেক

বরন্তির মেদুরতা কাটিয়ে বেরিয়ে পড়লাম জয়চন্ডী পাহাড়ের দিকে। পথে রুক্ষতার মাঝে লাল হলুদের ছোঁয়া। আগুন লেগেছে বনে বনে। মন যেতে চায় বহুদূর….. কিন্তু সময় যে বড় বালাই। ফিরতে হবে ইট- কাঠ-কংক্রিটের জঙ্গলে।

সেই যে এক বাউল ছিল সংক্রান্তির মেলায়/গানের তোড়ে দম বাঁধল গলায়/হারালো তার গানের পিছে হারালো তার প্রাণ /আহা, ভুলে গেলাম কী যেন তার নাম….. এই নাম খুঁজতেই বেরিয়ে পড়া, মানুষকে চিনতে শেখা। প্রকৃতির মাঝে খুঁজে বেড়ানো নিজের শিকড় আর উত্তর পুরুষকে দিয়ে যাওয়া স্বপ্নের পৃথিবী। প্রকৃতির মাঝে দাঁড়ালে হারিয়ে যাবে অতীত, যে অতীত হয়তো কান্না মেশানো। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বলতে ইচ্ছে করবে –এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যাব -ফুলে -ফলে -সবুজে -সরসতায়।


আগুন লেগেছে বনে বনে

একটু কষ্ট করে ভোরে ঘুম থেকে উঠে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ ধরে আসানসোলে নেমেই একটি গাড়ি নিয়ে নিন। সোজা বরন্তি। যাবার আরো হরেক পথ আছে। তার জন্য নেটদুনিয়া খোলা। কলকাতা থেকে রাত কাটানোর জায়গা নিশ্চিত করে যাবেন। কারণ পলাশ শিমুল কার না ভালো লাগে। ব্যাস আর কিছু ভাবতে হবে না। তারপর থেকে আপনি প্রকৃতির সন্তান। দু-চার দিন দূষণ মুক্ত প্রকৃতিতে থেকে, পরিষ্কার জল হাওয়াতে চাঙ্গা হয়ে ফিরে আসুন নিজের বাড়ির চার দেওয়ালে।


এক অপার্থিব সৌন্দর্যে মিশে যাবার মুহূর্ত !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *