Famous Flamingos

বন জ্যোৎস্নায় সবুজ অন্ধকারে !

ভূটান পাহাড়ের পাদদেশে পশ্চিমে সংকোশ নদী আর পূর্বে ধানসিডি নদীর অববাহিকায় প্রায় ৫০০ বর্গ কিমি কোর এরিয়া জুড়ে বিস্তৃত মানস জাতীয় উদ্যান প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য।১৯৮৯ সালে স্বীকৃতি পাওয়া এই জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে মানস নদী বয়ে গেছে যা প্রধানত দুটি শাখায় বিভক্ত।দ্বিতীয় শাখাটি দক্ষিনে প্রায় ৩০ কিমি গিয়ে ‘বেকি’ নাম নিয়ে বয়ে চলেছে।এই জাতীয় উদ্যানের অর্ধেকাংশ তরাইয়ের ঘাস জমি আর বাকি অর্ধাংশ জুড়ে রয়েছে চির হরিৎ আর পর্ণমোচী বৃক্ষের সমাহার ।৩৮০ প্রজাতির পাখি আর হাতি, এক শৃঙ্গ গন্ডার, বাইসন, বাঘ, হরিন, সহ বহু বিরল প্রজাতির বন্য প্রানীর দেখা মেলে এখানে।


ভোরের পাখি জানান দিল ওদের রাজ্যে প্রবেশ করেছি

যারা বেড়াতে ভালোবাসেন তারা সপ্তাহান্তিক ট্যুরে বেরিয়ে পড়তে পারেন এখানের জন্য। আমরাও বেরিয়ে পড়েছিলাম এমনই এক সপ্তাহান্তে পূর্ণিমাকে সাক্ষী রেখে। দুদিনের প্রতিটা মূহূর্ত আমরা নিংডে নিংডে উপভোগ করব ভেবে রেখেছিলাম। কিন্তু শেষদিন সূর্যদেব দিগন্তে আমাদের নৈবেদ্য না নিয়েই ডুবে গেলেন। কিছুতেই রাঙিয়ে রাখতে ,বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম না দিনটাকে।


সকালেই দাঁতালের সাথে সাক্ষাত

পূর্ণিমা থাকায় একটা হলুদ থালার মতো চাঁদ পাহাড়ের মাথা বেয়ে পত্রবিরল শাল বনের পটভূমিতে বাসন্তী সন্ধ্যায় ধীরে ধীরে আকাশে উঠতে লাগল , নীল নীল আকাশে। আর সেই ঘন নীলে তার হলুদ রঙ ঝরে গিয়ে অকলঙ্ক সাদা হল। সমস্ত জঙ্গল পাহাড় হাসছিল। সেই হাসিতে একটি খেয়ালী হাওয়া ঝুরু ঝুরু করে শুকনো পাতা উডিয়ে নিয়ে নাচতে লাগল।চাঁদনী রাতে জঙ্গল ,পাহাড় ,মানস নদী এমন এক মোহময়ী রূপ নিল যে মনে হল এরা সেই দিনের আলোয় দেখা জঙ্গল , পাহাড় কি নদী নয়। এরা নতুন কেউ। এবার ফেরার পালা। একটা মন খারাপের বিকেলে অপরূপা মানস কে পিছনে ফেলে আমাদের ঘরে ফেরা। আরও মাস খানেক পরে যখন গরম পড়বে , তখন সন্ধ্যার পর পাহাড়ে পাহাড়ে আলোর মালা জ্বলবে। প্রকৃতির নিজের হাতেই দীপান্বিতা হবে প্রকৃতি।হাওয়াটা ফিসফিসিয়ে কোনও গান্ধারী আলাপ বয়ে বেড়াবে।


এক শৃঙ্গ গন্ডার

মনের চোখে যেন সব দেখতে পাচ্ছি। কোলকাতা থেকে ট্রেনে বঙ্গাইগাও স্টেশনে নেমে ১:৩০ ঘন্টায় গাড়িতে করে পৌঁছতে পারেন অথবা বিমান যোগে গুয়াহাটি গিয়ে গাড়িতে করে ২:৩০ ঘন্টায় আসতে পারেন। থাকার জন্য রয়েছে আসাম বন দপ্তরের মাথানগুডি বন বাংলো একেবারে মানস নদীর কোল ঘেঁসে। আসাম পর্যটন দপ্তরের বাঁশবাড়ি ট্যুরিস্ট লজ এছাড়াও কিছু বেসরকারী ট্যুরিস্ট লজ।


পালের গোদা বাইসন

যোগাযোগ করতে পারেন বিরিনা ট্যুরিস্ট লজ।যোগাযোগ ০৩৩-৪০২২ ৯৫৯১ reservation@neptuneholidays.com. আসাম পর্যটন দপ্তরের বাঁশবাডি ট্যুরিস্ট লজ।যোগাযোগ ৯২০৭০ ৪২৩৩০/৩১ এছাড়াও আছে আসাম বন দপ্তরের মাতানগুডি বন বাংলো। বুকিং হয় বরপেটা থেকে। বিট অফিসার। এছাড়াও কিছু বেসরকারী লজ ও ইকো ক্যাম্প আছে। ইন্টারনেটে খুঁজলে পেয়ে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *